Talk about your Favorite Sports here
Zaheer Khan ruled out of 3rd Test against England


In one more not so great news to the injury hit Indian side, its fast bowler Zaheer Khan’s fitness has shown no signals of progress and the quick bowler has been ruled out of the 3rd Test at Edgbaston and probably the 4th Test too. He’s likely to come back home instantly.
Zaheer Khan bowled only 3 overs in the practice match against Northants before departing the ground. He didn’t come back afterwards.Zaheer Khan had dealt with a hamstring muscle problem during the 2nd day of the first Test at Lord’s and since then the Indian pacer has been out of action.
His substitute will probably be unveiled on Sunday by the BCCI.Currently Yuvraj Singh and Harbhajan Singh have came back to India because of injuries.
User avatar
By Doridro Boti
3rd Test match between India and England under threat


The 3rd Test between England and India beginning Wednesday might be cancelled due to rioting in Birmingham. There’s several violence in England’s 2nd biggest city Monday night as unrest that started in London, and has been fanned by anti-police feeling, spread country wide.Youths smashed stores, forcing England and India side managers to confine cricketers to their rooms in hotels in the heart of Birmingham.
Indian batsman and Suresh Raina yesterday reassured his mom that everything was comfortable, opting to talk via Twitter rather than a phone call. While severe situations have waylaid cricket matches in the past, not least England’s 2008 India tour which was terminated after the 26/11 strikes in Mumbai and later rescheduled, it’s unlikely that this week’s Test at Edgbaston is going to be cancelled. Let’s think about a few things.
British authorities have indeed requested several London football clubs like West Ham and Charlton Athletic to delay league ties planned for Tuesday night because of rioting in London. A Wednesday evening friendly between England and Netherlands at Wembley could also be uncertain. Police don’t like to allow England’s riot-prone soccer hooligans a reason to kick off at this point.Trailing 0-2 in the series, and with 2 Tests to play, the Indian squad itself requires to get aggressive.
User avatar
By Doridro Boti
Ajantha Mendis working on new delivery


Sri Lanka spinner Ajantha Mendis is developing a latest delivery which could come out in the ODI sequence. Mendis claimed 6-16 – the first 6 wicket haul in T20 cricket – as Sri Lanka wrapped up a 2-0 series sweep with an 8 run victory in Kandy on Monday.
Mendis, is attempting to cement his place in the Sri Lanka squad after being snubbed for the current tour of England and he`s careful of changing much for the 5 ODI games against the visiting Aussies.
“I do not plan to do a lot of modifications for the ODIs,” Ajantha Mendis informed journalists.”I just want to bowl line and length and do the several proper (things). If I bowl well I am aware I can take wickets.”But worryingly for Aussie`s batsmen, the difficult to pick Mendis also verified he was in the process of including one more weapon to an arsenal which currently includes his signature `carrom ball`, flippers, off-breaks, leg-breaks, top-spinners and googlies.
“I am producing a new ball,” Ajantha Mendis says.”But I haven`t still attempted that and maybe it will emerge shortly.” Mendis says the England visit drawback had most likely contributed to his excellent form. “Missing out on England games may have been one factor. I worked very tough to get back into the side.”
Mohsin Khan furious with Wasim Akram’s comments


Pakistan`s chief selector Mohsin Khan has responded clearly to Ex- skipper Wasim Akram`s criticism on the selection of the national team for the forthcoming tour of Zimbabwe. Mohsin says he was upset with Akram`s remarks that the selectors required to show regularity in selecting newer cricketers and that they shouldn’t have dropped fast bowlers — Umar Gul, Tanvir Ahmad and Wahab Riaz — for the Zimbabwe tour.
“I am upset simply because Wasim doesn’t spend enough time in Pakistan and isn’t informed of what the national selectors are considering or their line of strategy and steps,” says Mohsin. He also advised to the previous quick bowler to mind his own business and not to make half-baked arguments on the issues like national squad selection.
“I think he’s no business to give this kind of irresponsible remarks without understanding the details about national selection. I would advise him to extra some moment and talk to us and understand about our plans and our long term planning before making this kind of harmful remarks,”Mohsin Khan says.
Stating that Wasim Akram was only hectic with his commitments overseas as a broadcaster and expert, Mohsin Khan said, “It is not fair that he returns to the country after 3 or 4 months and without understanding the details, give remarks about the national squad.
Mohsin Khan, who played 48 Tests and 75 ODIs, advised wasim Akram to assist the country in whatever ability possible, instead of just making remarks.
Virender Sehwag caught on camera tampering with ball

Indian opener batsman Virender Sehwag was charged by the English press of ball tampering on the 3rd day of the third Test between India and England. As per reports, he was seen sucking on mint and later falling it on the ground. Apparently, the sugary saliva produced after chewing mint assists in shining the ball.
Virender Sehwag spent a lot of the morning session clearly sucking on a mint, which he at one show dropped in the slips. As per rule, Law 42.3(a)(i) states that any fielder may ‘polish the ball provided that no unnatural material is utilized and that this kind of polishing wastes no time’.
Back in 2005, England`s Marcus Trescothick had exposed that most of their cricketers were sucking mints to shine balls against Australia, which was later extremely criticised.

Dhoni and Co. busiest side in 2010


Indian cricket selection panel chief Krishnamachari Srikkanth`s claim that India play equal number of cricket with countries such as Aussie and England, figures reveal that Mahendra Singh Dhoni`s guys were the most hectic squad in the last twelve months. Srikkanth rejected to buy the concept that excessive cricket, which has led to tiredness and problem to the cricketers, was the key factor behind India`s embarrassing series loss against England.
“If you see the Future Tours Programme, all nations are taking part in cricket 365 days per year whether England or Aussie. It’s not the Indians only. Cricket is being played the full yr in whatever style — Test, ODI or t20. So I do not believe that it’s the tiredness element for the performance in England,” the ex- India skipper says. However, figures of the previous 1 yr has a different story to inform with India taking part in more Test and ODI games than Aussie and England.
From August previous year till date, India played 14 Tests, 29 ODIs and 2 T20 International games compared to Aussie (7 Tests, 23 ODIs, 5 T20 Internationals) and England (13 Tests, 24 ODIs, 5 T20 Internationals). Apart from the rigours of global cricket, the majority of the Indian players also represented their individual franchises in the high-profile IPL and Champions League t20 games.
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে পারেন মোহাম্মদ ইউসুফ


আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানাতে পারেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফ। একটি সূত্র একথা জানায়।

সামপ্রতিক সময়ে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড ২৩ জন খেলোয়াড়ের সাথে চুক্তির তালিকা ঘোষনা করে। কিন্তু সেই তালিকায় নিজের নাম দেখতে না পেরে ক্ষোভে, কষ্টে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ইউসুফ। ক্যারিয়ারে এর আগে আরও দুইবার অবসর নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু উভয় দফাতেই আবারো খেলার মাঠে ফিরেছিলেন ৩৭ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়। তবে এবার আর মত না পাল্টানোর সম্ভাবনা বেশি বলে একটি সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ডেইলি টাইমস একথা জানায়।

সূত্রটি জানায়, পাকিস্তানের ক্রিকেটে অনেক অবদান রাখার পরও চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়দের তালিকায় তাকে না রাখায় খুবই দু:খ পেয়েছেন ইউসুফ। এমনকি বোর্ডের কোন কর্মকর্তা বা নির্বাচক এ ব্যাপারে ইউসুফের সাথে কোন কথা বলারই প্রয়োজন মনে করেনি। ইউসুফ মনে করেন, সিনিয়র খেলোয়াড়দের নিয়ে বোর্ডের আর কোন পরিকল্পনা নেই। এ কারনেই অবসরের সিদ্বান্তকে সঠিক বলে মনে করছেন তিনি।

পাকিস্তানের হয়ে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে ১৯৯৮ সালে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে পা রাখেন ইউসুফ ইউহোনা। এরপর ধর্মান্তরিত হয়ে নাম পরিবর্তন করে হন মোহাম্মদ ইউসুফ। গত ১৩ বছরে পাকিস্তানের হয়ে খেলেন ৯০টি টেস্ট। ২৪টি সেঞ্চুরি ও ৩৩টি হাফ-সেঞ্চুরির মালিক ইউসুফের টেস্ট রান ৭৫৩০। আর ২৮৮টি ওয়ানডে ম্যাচে ১৫টি সেঞ্চুরি ও ৬৪টি হাফ সেঞ্চুরি নিয়ে ৯৭২০ রান জমা আছে ইউসুফের ঝুঁলিতে। পাকিস্তানের হয়ে সর্বশেষ ২০১০ সালে দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে খেলেছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। বাসস
সিরিজে ফেরার লড়াইয়ে আজ মাঠে নামবে শ্রীলংকা

হাম্বানটোলা মাঠকে অপয়া ভাবতে পারে শ্রীলংকা। সিরিজের প্রথম দুটি ম্যাচ হেরে যাওয়ায় স্বাগতিকদের মনোবোল ভেঙ্গে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার কাছে দুটি ওয়ানডে ম্যাচেই নাকাল লংকানরা, আজকের ম্যাচটিও যদি হাতছাড়া হয়ে যায়, তাহলে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটিকে আর বাঁচাতে পারবে না তিলকরাত্নে দিলশানের দল। পাল্লাকেলের প্রথম ওয়ানডের পর হাম্বানটোলায় দ্বিতীয় ম্যাচেও অজিদের আধিপত্য, যে ব্যাটিং নিয়ে দিলশানদের এত গর্ব, গত দুই ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের কোন পারফর্মেন্সেই তা লক্ষ্য করা যায়নি।

সিরিজের শুরু থেকে শ্রীলংকা ভালো সূচনা পায়নি। প্রথম ম্যাচে অতিরিক্ত আগ্রাসী মনোভাব ছিল তাদের, আর দ্বিতীয় ম্যাচে ছিল সতর্ক, তবে তৃতীয় ওয়ানডে ম্যাচ তাদের জন্য সৌভাগ্যের কিছু বয়ে আনতে পারে। কুমার সাঙ্গাকারা গত ম্যাচে দারুণ একটি ফিফটি পেলেও অন্য তিন সদস্যের কাছ থেকে কোন সহায়তা পাননি তিনি। দিলশান, থারাঙ্গা ও চার নম্বরে নামা মাহেলা জয়বর্ধনে ভালো স্কোর করলে লাসিত মালিঙ্গা, অজেন্তা মেন্ডিসদের অজি ব্যাটসম্যানদের গতি আটকানোর কাজটি সহজ হবে। অন্যদিকে সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার বোলার ডগ বলিংগার, মিশেল জনসন, ব্রেট লি এবং স্পিনাররা ভালো বোলিং করছেন। শেন ওয়াটসন, পন্টিং, অধিনায়ক ক্লার্ক রানও করছেন প্রচুর। এরাই স্বাগতিক লংকানকে কোনঠাসা করে রেখেছে। অধিনায়ক ক্লার্ক তো বলেই ফেললেন, ‘এখনো আমাদের অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে। দুটি ম্যাচ আমরা জিতেছি চমত্কার ব্যাটিং ও বোলিংয়ের কারণে’।

দিলশান অবশ্য আশাবাদী আজকের ম্যাচ দিয়ে সিরিজে ফিরবে তারা। তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যাটিংয়ে উন্নতি করতে হবে। আরো পরিশ্রম করতে হবে এবং ভালোভাবে ফিরে আসতে হবে’। হাম্বানটোলার পিচটি স্লো এবং লো হবে। তেমন একটা ঘাস হবে না উইকেটে। সফরকারী দলের অধিনায়ক ক্লার্ক তো ব্যাটিং উইকেটের সার্টিফিকেট দিয়েছেন। আজকের ম্যাচ দিয়ে জয়বর্ধনে হবেন বিশ্বের সাত নম্বর ব্যাটসম্যান, যিনি ৩৫০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলার কৃতিত্ব গড়বেন। অন্যদিকে মাইকেল ক্লার্কের অধীনে অস্ট্রেলিয়া ২৯টি ওয়ানডে ম্যাচে ২৩টি জিতে নতুন রেকর্ড গড়েছে। এই সিরিজে যেমন শ্রীলংকার পড়েছে ২০ উইকেট আর অজিদের ৫ উইকেট।

শ্রীলংকা দল (সম্ভাব্য): তিলকরাত্নে দিলশান (অধিনায়ক), উপল থারাঙ্গা, কুমারা সাঙ্গাকারা, মাহেলা জয়বর্ধনে, দিনেশ চন্দিমল/চামারা সিলভা, এঞ্জেলা ম্যাথুয়েস, জিবন মেন্ডিস, সুরুজ রন্ডিব, নুয়ান কুলাসেকারা, অজেন্তা মেন্ডিস ও লাসিত মালিঙ্গা।

অস্ট্রেলিয়া দল (সম্ভাব্য): মাইকেল ক্লার্ক (অধিনায়ক), রিকি পন্টিং, শেন ওয়াটসন, ব্রাড হাড্ডিন, ডেভিড হাসি, স্টিভেন স্মিথ, মিশেল জনসন, ব্রেট লি, জাবিয়ার দোহার্টি, মাইকেল হাসি এবং ডগ বলিংগার।
Shoaib and Kaneria fail to get PCB approval for selection


The PCB integrity panel couldn’t give approval to Shoaib Malik and Danish Kaneria for selection in the national squad after a long gathering on Monday. Both cricketers appeared before the integrity panel which held its gathering at the PCB head office with 2 main people of the panel – Sultan Rana and Zakir Khan – conspicuous by their absence.
Recently, the national selection panel had included Shoaib Malik in the list of standbys while announcing the squad for the forthcoming trip of Zimbabwe and the move was seen as a clear signal to Shoaib Malik’s come back to international cricket for Pakistan.However, the PCB authorities on Monday remained tight-lipped about the fate of both cricketers after the integrity panel meeting. “The PCB isn’t going to mention any verdict in this case as these are under consideration,” PCB’s GM Media Nadeem Sarwar says.
It’s learnt that while Kaneria had didn’t submit a approval document to PCB from the ECB which is needed to get the integrity committee’s approval, Shoaib Malik has been put up with several more questions regarding his activities and property. Shoaib Malik, the sources says, is more likely to get approval compared to Kaneria as skipper Misbah-ul-Haq has also put his weight behind the all-rounder, specifically for T20 and ODI cricket.
Mohammad Yousuf nominated for ‘Pride of Performance Award’


Stylish Pakistan middle-order batsman, Mohammad Yousuf has been selected for the ‘Pride of Performance Award’, on the event of Pakistan’s 64th Independence Day. The fantastic batsman, Yousuf will receive this honor in a ceremony at the President house, on March 23, 2012.
A short while ago, the 36-year-old stylish batsman, who’s going to observe his 37th Birthday on August 27, 2011, declared retirement from International cricket, and disclosed that the PCB doesn’t want to think about him for national selection.While saying his retirement in Karachi, he clarified that he’s done with his cricketing job, and that he wouldn’t take his retirement plan back.
The way a cricketer of his quality was sidelined and eventually resigned, made clear his discouragement with PCB.The ruling body of cricket in Pakistan has been sidelining Yousuf a short while ago, and currently he was also axed from the list of the central contracts.
Mohammad Yousuf played his last Test game for Pakistan against England at Lord’s, in London, last year.
Younis Khan declines Pak Limited Overs captaincy


The PCB had contacted Younis Khan to skipper Pakistan in limited-overs in order to reduce the work load on Misbahul Haq but the ex- skipper rejected the request, insisting on want to focus on his batting and his wish to avoid controversies.
The move was part of PCB’s turn to either develop a fresh skipper or fill the void left by the retirement of Shahid Afridi. The PCB, following Younis’ rejection, has opted to keep Misbah as skipper for the upcoming 3 series even if the middle-order batsman fails to sustain his performance.
Younis Khan rejection didn’t come as a shock as the batsman, who led Pakistan to the ’09 World T20 title before retiring from the format altogether, stepped down as the ODI and Test skipper later that year citing the lack of support from team mates. He was recalled to the side midway through the tour of Aussie but, by the integrity panel formed after Pakistan’s winless trip, was punished and suspended indefinitely for producing disharmony in the dressing room.
Younis Khan was told to become limited-overs skipper but he rejected the proposal straightway,” a leading PCB official told. “He says he basically wanted to concentrate on his batting and wasn’t prepared to take captaincy as his desire was to avoid controversies.
ভারতীয়বোলাররা নয়, বৃষ্টিই রুখে দিলইংলিশদের অগ্রযাত্রা


ওভালে ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের চতুর্থ ও শেষ টেস্টে ভাল শুরু করেছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। কিন্তু লাঞ্চের পর বৃষ্টি বাগড়া দেয়ায় তাদের এই অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিনা উইকেটে ৭৫ রান করেছে তারা। অ্যালিস্টার কুক ও অ্যাণ্ড্রু স্ট্রাউস যথাক্রমে ৩৪ ও ৩৮ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

ওভালের ফ্ল্যাট উইকেটে টস জেতার পর ব্যাটিং নিতে ভুল করেননি ইংলিশ অধিনায়ক স্ট্রাউস। তার সিদ্ধান্ত যে সঠিক ছিল সেটা তিনি ও কুক দারুণ খেলে প্রমাণ করেন। ভারতীয় বোলারদের পাত্তা না দিয়ে বেশ সহজেই রান তুলতে থাকেন তারা। ইশান্ত শর্মাই শুধুমাত্র সুইং ও গতিতে বৈচিত্র্য এনে ব্যাটসম্যানদের কিছুটা সমীহ আদায় করতে পেরেছেন। যদিও তিনি ও তার নতুন বলের সঙ্গী রুদ্র প্রতাপ সিং ইংলিশদের কোন উইকেট ফেলতে পারেননি। দুই ওপেনিং বোলার কোন উইকেট না পাওয়ায় ভারতের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি শান্তা কুমারান শ্রীশান্থের দ্বারস্থ হন। কিন্তু অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দিতে পারেননি কেরালার এই পেসার। উল্টো একের পর এক লেগ সাইডে বল করে ইংলিশ ওপেনারদের জন্য রান করাটা আরো সহজ করে দেন।

এজবাস্টন টেস্টের দলটিকেই গতকাল মাঠে নামায় ইংল্যান্ড। ইনজুরির কারণে জেমস অ্যান্ডারসনের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও ফিটনেস টেস্ট পাশ করায় শেষ মুহূর্তে দলে জায়গা পান তিনি। কিন্তু এই সিরিজে ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার প্রভিন কুমার খেলতে না পারায় ম্যাচের আগেই বিরাট ধাক্কা খায় সফরকারী দল। তার পরিবর্তে তিন বছর পর টেস্ট খেলতে নামেন রুদ্র প্রতাপ সিং। কিন্তু জানুয়ারির পর কোন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট না খেলার কারণেই হয়ত লাইন-লেন্থ বজায় রাখতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাকে। ভারতীয় বোলারদের সেরা সাফল্য হচ্ছে স্ট্রাউসের হেলমেটে আঘাত করা। দীর্ঘদেহী ইশান্তের একটি শর্ট বল স্ট্রাউসের হেলমেটে গিয়ে আঘাত করলে এটার একপাশের ঢাকটি উড়ে যায়। যার কারণে পরবর্তীতে স্ট্রাউস ফ্রন্ট ফুটে খেলা কমিয়ে দেন। যদিও এতে তার রান করার পথে কোন বাঁধার সৃষ্টি হয়নি। লাঞ্চে যাবার আগ পর্যন্ত পাঁচটি চারের সাহায্যে ৩৮ রান করেন তিনি। ইংলিশ ওপেনাররা যখন লাঞ্চে যান ততক্ষণে কোন উইকেট না হারিয়ে তারা তুলে ফেলেন ৭৫ রান। এরপরই বৃষ্টি আরম্ভ হওয়ায় লাঞ্চের পর খেলা শুরু হতে বেশ খানিকটা দেরি হয়। সিরিজের প্রথম তিনটি টেস্টে জিতে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ইংল্যান্ড। এই টেস্টে ভারতকে হারাতে পারলে হোয়াইটওয়াশ করার পাশাপাশি টেস্ট র্যাংকিংয়ে নিজেদের অবস্থানকে আরো সুসংহত করতে পারবে স্ট্রাউসের দল।


ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস

স্ট্রাউস অপরাজিত ৩৮

কুক অপরাজিত ৩৪

অতিরিক্ত (বাই-১, লেগবাই-২) ৩

মোট (২৬ ওভারে বিনা উইকেটে) ৭৫

বোলিং: আর পি সিং ১০-৩-২৪-০, ইশান্ত শর্মা ৮-২-১৭-০, শ্রীশান্থ ৬-০-২৬-০, রায়না ২-০-৫-০।

পাকিস্তানের সহকারী কোচ ইজাজ আহমেদ

সাবেক টেস্ট ব্যাটসম্যান ইজাজ আহমেদকে পাকিস্তান ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ নির্বাচন করা হয়েছে। তিনি আগামী সপ্তাহে দলের সাথে জিম্বাবুয়ে সফরে যাবেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) তাদের এক বিবৃতিতে জানায়, টিম ম্যানেজমেন্টের অনুরোধের ভিত্তিতে ইজাজকে দলের সহকারী কোচ নির্বাচন করা হয়েছে।

ইজাজ গত বছরের এশিয়া কাপ এবং ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তান দলের কোচিং স্টাফের সদস্য ছিলেন। ৬০ টেস্টে ১২টি সেঞ্চুরিসহ ৩৩১৫ রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। এছাড়াও ২৫০টি ওয়ানডেতে ১০ সেঞ্চুরিসহ ৬৫৬৪ রান করেন হার্ড- হিটিংয়ের জন্য বিখ্যাত ইজাজ।
হোয়াইটওয়াশ থেকে বাঁচল সাকিবের দল


অবশেষে স্বস্তির জয় পেল বাংলাদেশ দল। হারারের মাঠের দুঃস্বপ্ন শেষ পর্যন্ত বুলাওয়েতে ভুলতে পেরেছে সফরকারীরা। যদিও গতকালের ৬ উইকেটের জয় শুধুই সান্ত্বনার তারপরও এই জয় থেকে কিছুটা হলেও নিজেদের অস্বস্তি থেকে মুক্তির উপায়ও হিসেবে খুঁজছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের সফরে এসে প্রস্তুতি ম্যাচ, টেস্ট ম্যাচ এবং টানা তিন ওয়ানডে ম্যাচের পরাজয়ের দাগ ভোলার জন্য এই জয় বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ হোয়াইটওয়াশ ঠেকাতে হলে জিম্বাবুয়েকে হারানো ছাড়া বিকল্প কোন পথও ছিল না তাদের জন্য।

গতকাল বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাব মাঠে ভিন্ন বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবিই ফুটে উঠে ম্যাচের শুরু থেকে। স্বাগতিক জিম্বাবুয়েকে ১৯৯ রানে বেঁধে ফেলা এবং ৮০ বল বাকি থাকতেই জয় তুলে নেয়ায় বাংলাদেশের আগের ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত ছিল শুরু থেকে। সিরিজ বাঁচানো ম্যাচটি যদি জিততে পারতো সফরকারীরা। কাল ম্যাচ শেষে এই আফসোসেই পুড়েছে সাকিবরা।

১৯৯ রানের স্বল্প টার্গেট সত্ত্বেও শুরু থেকে ইমরুল কায়েস ও তামিম ইকবাল যে ঝড়ো ইনিংস শুরু করেছিলেন, তাতেও সবার মনে শংকা কাজ করছিল। তবে গতকাল প্রত্যেকেই ছিলেন অনড়, নিজেদের আত্মবিশ্বাসকে শক্তিশালী করেই মাঠে নেমেছিলেন। কাল বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে সেই আত্মবিশ্বাসের ছাপ দেখা গেছে শুরু থেকে। শুধু ব্যাটসম্যান নয়, ফিল্ডিং ও বোলিংয়েও দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। আগের ম্যাচেই ভঙ্গুর বাংলাদেশের ফিল্ডিংয়ে কাল ছিল নতুন প্রাণ। উজ্জীবিত খেলোয়াড়দের ফিল্ডিং দেখে জিম্বাবুয়ের খেলোয়াড়রাও অভিভূত। উইকেট কিপার মুশফিকুর রহিম ছিলেন সবার থেকে আলাদা। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দলের ভিলেনে পরিণত হওয়ার পর নিজের ভিতরে অনুশোচনা কাজ করছিল। কাল দুর্দান্ত ফিল্ডিং ছাড়াও রে প্রাইসের অসাধারণ একটি ক্যাচ ধরেছেন যা ছিল এই সিরিজের সেরা ক্যাচ।

জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে অবশেষে জয় পেয়ে অধিনায়ক সাকিব আল হাসানের কপাল থেকেও কিছুটা দুশ্চিন্তা কমেছে। কাল ম্যাচ শেষে বললেন, ‘এই জয় আমাদের প্রয়োজন ছিল। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা রান পাওয়ায় এবং বোলাররা ভালো বল করায় আমরা এই জয় পেয়েছি’। কিন্তু টসে জিতে আগের ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিজেদের কাঁধে নেয়া আড়াইশ রানকেও ছুঁতে পারেনি বাংলাদেশ। অথচ কালও টসে জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সাকিব। এর রহস্যের কথা অবশ্য বলেছেন ম্যাচ শেষে। ‘দেখুন আমরা সবসময় টার্গেট তাড়া করতে পছন্দ করি। আমার কাছে মনে হয়েছে, অল্প রানে বেঁধে ফেলতে পারলে আমরা ম্যাচ জিতবো। তবে উইকেটও আমাদের সহায়তা করেছে’।

ওয়ানডে সিরিজে আগের ম্যাচে ৪৪ রান করে আউট হওয়া তামিম কাল ঝড়ো হাফ সেঞ্চুরি করেন। মূলত, কালই তিনি পুরানো ছন্দে ফিরতে পেরেছেন। জিম্বাবুয়ের ব্রায়ান ভিটোরিকে ‘অর্ডিনারি’ বলার খেসারত তিনি আগের ম্যাচগুলোতে দিয়েছেন। কাল তার ব্যাটিংয়ে সেই জবাব দিয়েছেন, কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে কাল ভিটোরি খেলেননি। তার বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছেন অলরাউন্ডার ম্যালকম ওয়ালার। ভিটোরি খেলেননি বলেই জিম্বাবুয়ের বোলিংয়ের ক্ষুরধারও তেমন ছিল না। ইনিংসের প্রথম ওভারেই কায়েস এমপফুকে যেভাবে উড়িয়ে ছয় মারলেন, তাতে কিছুটা হলেও হতভম্ব স্বাগতিকরা। পরের ওভারে তার সাথে যোগ দিলেন তামিম। জারভিসকেও কায়েস মিডউইকেট দিয়ে ছক্কা মেরেছেন। এই দুই ওপেনারের ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল টার্গেট হয়তো তিনশ’ রান। ৪ ওভারেই ৪৫ রানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের ১৯তম ফিফটি করে তামিমও স্বস্তি পাচ্ছেন, কারণ এই সিরিজে এটিই তার সর্বোচ্চ রান! কালকের ওয়ানডে ম্যাচে আরো একটি পজিটিভ দিক হল, তরুণ অলরাউন্ডার শুভগত হোমও রান পেয়েছেন। ৩৭ বলে করা ৩১ রানের মধ্যে ৫টি চার রয়েছে।

শুধু ব্যাটিং নয়, বল হাতে রুবেল হোসেন সিরিজের শুরু থেকে নিজের সামর্থ্য দিয়ে সবাইকে তাক লাগাচ্ছেন। ওয়ানডে সিরিজে দুর্দান্ত বল করা রুবেল কালও নিয়েছেন ৪ উইকেট। ম্যাচ সেরার পুরস্কারটিও উঠে তার হাত।

বাংলাদেশ যখন এসব ইতিবাচক দিক খুঁজে পাচ্ছে ঠিক তেমনি জিম্বাবুয়েও সেরকম কিছু পেয়েছে। টেস্টে সেঞ্চুরির পর ওয়ানডে সিরিজে অধিনায়কের ব্যাট থেকে রানই আসছিল না। তার নিজের ফর্ম নিয়ে তিনিও চিন্তিত ছিলেন। অবশেষে তার ব্যাট হাসল, আর পেলেন ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরি। আফসোস করেই বললেন, ‘সেঞ্চুরি পেয়েছি বলে আনন্দিত, কিন্তু দুঃখ হচ্ছে ম্যাচটি হেরে গেছি’। বাংলাদেশের গতকালের জয়ের পর টেইলর সফরকারীকে শক্তিশালী দল হিসেবেই সার্টিফিকেট দিলেন । যদিও এই সিরিজ শুরুর পর থেকেই তিনি বলে আসছিলেন এটি, কাল সেই কথাটি আবার মনে করিয়ে দিলেন। ‘দেখুন আমি আগেও বলেছি বাংলাদেশ শক্তিশালী দল, তারা যে কোন সময় আমাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়বে। আজকের (কাল) ম্যাচ জিতে সেটা তারা প্রমাণ করেছে। তবে দুঃখ হচ্ছে এই ম্যাচটি আমরা না জিততে পারায়।

বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করতে পারেনি স্বাগতিকরা। তারপরও সিরিজের পঞ্চম ম্যাচ নিয়ে আশাবাদী তারা। সফরকারী দলের অধিনায়ক সাকিব অবশ্য মনে করছেন, এই জয়ের ধারা অব্যহত থাকবে।

স্কোর কার্ড

টস- বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ে ইনিংস-

বল রান ৪/৬

টেইলর ক রিয়াদ ব রুবেল ১০৬ ১৩৭ ৭/১

সিবান্দা ক মুশফিক ব শফিউল ১৮ ২৪ ৪/০

মাসাকাজ্জা ক মুশফিক ব রিয়াদ ০ ৬ ০/০

টাইবু রান আউট (নাসির/মুশফিক) ৭ ১৬ ১/০

মুতিজোয়া ক মুশফিক ব সাকিব ৯ ১৫ ১/০

চিগুম্বুরা ক নাসির ব রুবেল ৩১ ৬৫ ১/০

ওয়ালার হিট উইকেট ব রুবেল ১২ ৯ ১/১

উতসেয়া ব শফিউল ০ ৩ ০/০

প্রাইস ক মুশফিক ব রুবেল ০ ২ ০/০

জারভিস ব রাজ্জাক ১ ৮ ০/০

এমপফু অপরাজি ১ ৫ ০/০

অতি: ১৪

মোট: অলআউট (৪৮.২ ওভার) ১৯৯

উইকেট পতন:

১/৪০, ২/৫৩, ৩/৬৯, ৪/৮৯, ৫/১৮৩, ৬/১৮৪, ৭/১৯৬, ৮/১৯৬, ৯/১৯৬, ১০/১৯৯।

বোলিং বিশ্লেষণ:

শফিউল ১০-০-৪৭-২

রুবেল ৯-১-৩১-৪

রাজ্জাক ৯.২-০-৩১-১

রিয়াদ ৯-০-৩৬-১

সাকিব ৬-০-২৫-১

শুভগত ২-০-৯-০

নাসির ৩-০-১৪-০

বাংলাদেশ ইনিংস

তামিম এলবি ব প্রাইস ৬১ ৫৩ ৯/০

কায়েস ক মাসাকাজ্জা ব এমপফু ২৮ ২০ ৩/২

জুনায়েদ ক জারভিস ব উতসেয়া ১৪ ২০ ১/১

মুশফিক ক সিবান্দা ব জারভিস ১৬ ৪০ ১/০

সাকিব অপরাজিত ৩৫ ৪০ ১/০

শুভগত অপরাজিত ৩১ ৪৩ ৪/০

মোট (৪ উইকেটে, ৩৫.৩ ওভারে) ১৯৫

উইকেট পতন :

১/৪৬, ১/৭২, ৩/১২২, ৪/১২৯

বোলিং বিশ্লেষন:

এমপফু ১০-০-৪৯-১

জারভিস ৬-০-৪৪-১

উতসেয়া ১০-০-৬৫-১

প্রাইস ৯-১-৩৫-১

ওয়ালার ০.৩-০-১-০

ম্যান অব দ্য ম্যাচ:রুবেল হোসেন।

ফল: বাংলাদেশ জয়ী ৬ উইকেটে।

সিরিজ: জিম্বাবুয়ে এগিয়ে ৩-১ ব্যবধানে।

পঞ্চম ম্যাচ: ২১ আগষ্ট, বুলাওয়ে।

ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের থামাতে পারছে না ভারত


ইয়ান বেলের সেঞ্চুরি ও কেভিন পিটারসেনের সেঞ্চুরি ছুঁই ছুঁই ইনিংসে ভর করে ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় দিনে শক্ত অবস্থানে পৌঁছেছে ইংল্যান্ড। দারুণ শুরুর পরও ভারতীয় বোলাররা খেই হারিয়ে ফেলায় ওভাল টেস্টের দ্বিতীয় দিনটি নিজেদের করে নিল স্বাগতিকরা। দ্বিতীয় দিনের চা বিরতি পর্যন্ত দুই উইকেট হারিয়ে ২৯৬ রান তুলেছে স্বাগতিকরা। ১১৪ ও ৯৮ রান নিয়ে ব্যাট করছেন বেল ও পিটারসেন।

টেস্টের প্রথম দিনের বিনা উইকেটে ৭৫ রান নিয়ে খেলতে নেমে শুরুতেই ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়েন ইংলিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্র স্ট্রাউস ও অ্যালিস্টার কুক। দিনের প্রথম ওভারের পঞ্চম বলেই প্রথম দিনের রানের সাথে কোন রান যোগ না করেই বিদায় নেন এজবাস্টনে ২৯৪ রান করা কুক। তাই ব্যক্তিগত ৩৪ রানেই ফিরে যেতে হয় তাকে ।

প্রথম দিন বৃষ্টির কারণে মাত্র ২৬ ওভার খেলা হলেও গতকাল সকালে আকাশে মেঘের কোন ছিটেফোঁটাও ছিল না। কিন্তু তা সত্ত্বেও বোলাররা সুইং পাচ্ছিলেন। বৃহস্পতিবারে ভারতীয় বোলিংয়ের সাথে গতকালের বোলিংয়ের কোন মিলই ছিল না। প্রথম দিন আর পি সিং প্রথম ওভারে লেগ স্টাম্পের বাইরে পাঁচটি বল করেছিলেন। কিন্তু কাল ইশান্ত শর্মা প্রথম ওভারেই দারুণ বল করে তুলে নেন ইংলিশ ওপেনার কুককে। তার ফুল লেন্থের একটি বলকে ড্রাইভ করতে গিয়ে প্রথম স্লিপে দাঁড়ানো বিরেন্দর সেবাগের হাতে তুলে দেন কুক। ইশান্তের প্রথম স্পেলের বোলিং বিশ্লেষণই (৬-৩-৭-১) বলে দেয় প্রথম দিনের চেয়ে দ্বিতীয় দিনে ভারতীয়দের বোলিং কতটা ভিন্ন রকম ছিল। এমনকি প্রথম দিনের বাজে বোলিং করা আর পি সিংও তার মিডিয়াম পেস দিয়ে ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের বেঁধে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। ইশান্ত ও আর পি সিংয়ের দুর্দান্ত বোলিংয়ের কারণেই গতকাল প্রথম রান তুলতে প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়েছিল ইংল্যান্ডকে।

কুক আউট হবার পর ব্যাট করতে নামেন বেল। কিন্তু বেশিক্ষণ তাকে সঙ্গ দিতে পারেননি স্ট্রাউস (৪০)। ভারতীয় বোলারদের দারুণ বোলিংয়ে হাঁসফাঁস করতে থাকা স্ট্রাউস প্রায় পৌনে একঘন্টা ব্যাট করে ৩২ বল খেলে আগের দিনের রানের সাথে মাত্র দুই রান যোগ করেন। কিন্তু পরে ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে শান্তকুমারান শ্রীশান্থের অফ স্টাম্পের অনেক বাইরের একটি বল খেলতে গিয়ে দলীয় ৯৭ রানে মহেন্দ্র সিং ধোনির হাতে ধরা পড়েন। স্ট্রাউসের আউটের পর ব্যাট করতে নামেন লর্ডস টেস্টের ডাবল সেঞ্চুরি করা ব্যাটসম্যান পিটারসেন। বেল- পিটারসেন মিলে বেশ দক্ষতার সাথে ফুঁসে উঠা ভারতীয় বোলিংকে সামলান। এজবাস্টনে বেল ৪৩ বলে ৩৪ রান করলেও তার ইনিংসটিতে আত্মবিশ্বাসের ছাপ ছিল না। কিন্তু গতকাল তিনি বেশ নিয়ন্ত্রিণ একটি ইনিংস খেলেন। আত্মবিশ্বাসের সাথে বলের মেধা বিচার করে খেলেন তিনি। প্রয়োজনে ভারতীয় বোলারদের সমীহ করেছেন, আবার সুযোগ পেলে তাদের উপর চড়াও হয়েছেন।

অন্যদিকে, পিটারসেন ছিলেন স্বভাবসুলভ মারকুটে ঢংয়ে। ৪৬তম ওভারে অমিত মিশ্রকে বোলিংয়ে আনা হলে বাউন্ডারি মেরে তাকে স্বাগত জানান পিটারসেন। এই দুইজনের দারুণ ব্যাটিংয়ে ম্যাচের লাগাম ধীরে ধীরে নিজেদের হাতে তুলে নেয় ইংল্যান্ড। ১২৬ রান নিয়ে ইংল্যান্ড যখন লাঞ্চে যায় তখন পর্যন্ত আর কোন উইকেট হারায়নি তারা।

লাঞ্চের পর ব্যাট করতে নেমে আরো দুর্বান হয়ে উঠেন এই জুটি। প্রায় ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাট করে ভারতীয় বোলারদের হতাশাজনক সময় উপহার দেন।

ব্যক্তিগত ৪৩ রান থেকে শ্রীশান্থের পর পর দুই বলে দুইটি চার মেরে হাফ-সেঞ্চুরিতে পৌঁছান বেল। ঐ ওভারে শ্রীশান্থকে আরো একটি চার মারেন বেল। সঙ্গীর হাফ-সেঞ্চুরির কিছুক্ষণ পর ইশান্ত শর্মার বলে একটি সিঙ্গেল নিয়ে পিটারসেনও হাফ-সেঞ্চুরি করেন। পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন এই দুই ব্যাটসম্যান। এরই ফাঁকে সুরেশ রায়নাকে চার মেরে সিরিজে নিজের দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের ষষ্ঠদশ সেঞ্চুরি করেন বেল। সঙ্গী পিটারসেনও সে পথেই এগুছিলেন।


ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস

স্ট্রাউস ক ধোনি ব শ্রীশান্থ ৩৮

কুক ক সেবাগ ব ইশান্ত ৩৪

বেল অপরাজিত ১১৪

পিটারসেন অপরাজিত ৯৮

অতিরিক্ত (বাই-১, লেগবাই-৪, নো বল-৫) ১০

মোট ( ৮৯ ওভারে দুই উইকেটে) ২৯৬

উইকেট পতন: ১-৭৫, ২-৯৭।

বোলিং: আর পি সিং ২৩-৬-৬৮-০, ইশান্ত শর্মা ২০-৭-৪৮-১, শ্রীশান্থ ১৭-১-৭৩-১, রায়না ৭-০-২৪-০, অমিত মিশ্র ২০-২-৬৭-০, টেন্ডুলকার ২-০-১১-০।

‘টেস্টের সবচেয়ে বাজে প্রথমওভার’

ওভাল টেস্টের প্রথম দিনে রুদ্র প্রতাপ (আরপি) সিংকে দিয়ে বোলিং ওপেন করানোয় ভারতীয় অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংয়ের সমালোচনা করেছেন কিংবদন্তী অলরাউন্ডার ইয়ান বোথাম। এছাড়াও আরপি সিংয়ের করা প্রথম ওভারটিকে তার দেখা টেস্ট ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বাজে প্রথম ওভার’ বলেছেন তিনি।

তিন বছর পর টেস্ট খেলতে নামা আরপি সিং প্রথম ওভারটিতে পাঁচটি বলই করেছেন লেগ স্টাম্পের বাইরে। এ নিয়ে ‘মিড ডে’কে বোথাম বলেন, এটা খুব সহজেই আমার দেখা টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে বাজে প্রথম ওভার। যখন আপনি একটি সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থাকেন তখন কোন টেস্ট ম্যাচে আপনি লেগ স্টাম্পের বাইরে বল করতে পারেন না।

শুধু তাই নয়, মুনাফ প্যাটেলকে দলে না নেয়ার ব্যাপারটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন সাবেক এই ইংলিশ অধিনায়ক। তিনি বলেন, তাহলে মুনাফ প্যাটেলকে কেন এই সফরের দলে রাখা হয়েছে? তাকে এই টেস্টে খেলানোর প্রয়োজন ছিল।

শুধু বোথাম নয়, আরপি সিংয়ের হাতে নতুন বল তুলে দেবার জন্য পেস কিংবদন্তী ওয়াসিম আকরামও ভারতের সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, আরপি সিং এমনকি গত জানুয়ারি থেকে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেননি। সেখান থেকে আপনি তাকে একটা টেস্ট ম্যাচে খেলতে নামিয়ে দেবেন এবং নতুন বল হাতে তুলে দেবেন? আমার মনে হয় না যে, ভারতীয় বোলাররা তাদের সেরা অবস্থায় আছে।
ইউনুস খানকে অধিনায়ক করতে চেয়েছিল পিসিবি

শহীদ আফ্রিদি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নেবার পর সিনিয়র ব্যাটসম্যান ইউনুস খানকে অধিনায়ক হিসেবে চেয়েছিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। কিন্তু নিজের ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দেবার জন্য অধিনায়কত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন এই ব্যাটসম্যান। টেস্ট অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হকের উপর যাতে চাপ কম পড়ে এজন্যই ইউনুসকে এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। পিসিবির একজন কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন।

‘এক্সপ্রেস ট্রিবিউন’ তাদের রিপোর্টে ঐ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ইউনুস খানকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটের অধিনায়কত্ব নিতে বলা হয়েছিল কিন্তু সে সরাসরি এ প্রস্তাব নাকচ করে দেয়। ইউনুস বলেন যে, সে তার ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতে চায় এবং এই মুহূর্তে অধিনায়কত্ব নেবার জন্য প্রস্তুত নয়। তার ইচ্ছা ছিল বিতর্ক থেকে দূরে থাকা।

তিনি আরো বলেন, আমরা তার অনুভূতিকে সম্মান জানাই এবং তাকে এজন্য চাপ দেয়া হবে না। বোর্ড বর্তমানে মিসবাহ’র উপরই আস্থা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশা করছি, সে দীর্ঘ সময়ের জন্য ফিট থাকবে এবং পারফর্ম করতে পারবে। অনেকদিন না হলেও কমপক্ষে সে শ্রীলংকা ও ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সব ধরনের ক্রিকেটেই দলকে নেতৃত্ব দেবে।

ইউনুস ২০০৯ সালে পাকিস্তান দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এছাড়াও একই বছর তিনি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দলের অধিনায়ক ছিলেন। কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে অধিনায়কত্ব ছেড়ে দেন। একটি সূত্র জানায়, ইউনুস নিজেই সরে দাঁড়ায় কারণ তার মনে হয়েছিল সে দলের খেলোয়াড়দের সমর্থন পাচ্ছে না।

প্রায় আট মাস জাতীয় দলের বাইরে থাকার পর ইউনুস গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজে আবারো ফিরে আসেন। সেই থেকে তিনি সব ধরনের ক্রিকেটেই জাতীয় দলের একজন নিয়মিত সদস্য।

অজি ক্রিকেটের উন্নয়নে বরখাস্ত হলেন প্রধান নির্বাচক ও কোচ

বছরখানেক ধরে চলা অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের বিপর্যয় থামাতে সেদেশের ক্রিকেট বোর্ড গতকাল শুক্রবার প্রধান নির্বাচক অ্যান্ড্রু হিলডিচ, নির্বাচক প্যানেলের সদস্য গ্রেগ চ্যাপেল ও কোচ টিম নিয়েলসনকে বরখাস্ত করেছে।

অস্ট্রেলিয়াকে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ফেরাতে ডন আর্গাসের রিভিউ কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) নেয়া কয়েকটি স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এদের চাকরি গেল।

গেল গ্রীষ্মের অ্যাশেজ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার ভরাডুবির কারণ খতিয়ে দেখতে দায়িত্ব দেয়া হয় আর্গাসের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের এই মূল্যায়ন কমিটিকে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সাবেক তিন অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার, মার্ক টেলর ও স্টিভ ওয়াহ এবং সিএ’র সাবেক প্রধান নির্বাহী ম্যালকম স্পিড।

ওই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এসব পদক্ষেপ নেয় সিএ। এ ব্যাপারে বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দেয়া হলেও দলের ‘পারফরমেন্স’ যাচাই করে দেখার জন্য একজন জেনারেল ম্যানেজার নিয়োগের সুপারিশ করা হয়। তিনি দল, কোচিং, নির্বাচন ইত্যাদি বিষয় দেখভাল করবেন। একই সঙ্গে স্টেট ক্রিকেটে ‘পারফরমেন্স’ ও প্রতিভা খুঁজে বের করার দায়িত্বে নিয়োজিত ম্যানেজারদের সঙ্গেও কাজ করবেন তিনি। হিলডিচ অবশ্য পুরোপুরি বেতনভোগী ছিলেন না। তারপরও তাকে বরখাস্ত করে পাঁচ সদস্যের এক নির্বাচক কমিটি গড়া হচ্ছে যাতে চেয়ারম্যান হবেন পূর্ণকালীন ভিত্তিতে নিয়োগ পাওয়া। অপর দুই নির্বাচক হবে স্বতন্ত্র সদস্য। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া তাদের জাতীয় দলের অধিনায়ক ও কোচকেও নির্বাচক কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধান নির্বাচক ‘পারফরমেন্স’ ম্যানেজমেন্টের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। জাতীয় দলের বাইরের খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টিও দেখবেন তিনি। খেলোয়াড়দের উন্নতির জন্য পরিকল্পনা তৈরি ও তার বাস্তবায়নেরও দায়িত্ব তার। কোচিং কাঠামোয় পরিবর্তন সম্পর্কে বলা হয়, প্রধান কোচ নির্বাচক হিসেবেও কাজ করবেন। অস্ট্রেলিয়ার কোচিং কৌশল নির্ধারণে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স’ ও রাজ্য এসোসিয়েশনের সঙ্গে কাজ করবেন তিনি।

এর বাইরেও কিছু সুপারিশ রয়েছে যেগুলো এখনো সিএ অনুমোদন করেনি। কিছু দিনের মধ্যে অবশ্য অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেট, বিশেষ করে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট কাঠামোকে ঢেলে সাজানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বয়সভিত্তিক দল ও অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের ব্যাপারে আরো বেশি নজর দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। ‘এ’ দল যেন সত্যিকার অর্থেই দ্বিতীয় দল হিসেবে গড়ে উঠতে পারে তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। টেস্ট খেলার উপযোগী উইকেটে প্রথম শ্রেণীর খেলা আয়োজনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এছাড়া বিগ ব্যাশ লিগ যেন কোনোভাবেই টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান ফিরে পাওয়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়াতে পারে তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

কাউন্টি দল নাও খেলতে পারে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে

ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) চ্যাম্পিয়ন্স লিগ টি-টোয়েন্টিতে কাউন্টি দলগুলোর অংশ গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে পারে। টেলিগ্রাফের এক খবরে এমনই আভাস দিয়েছে ইসিবি। খবরে বলা হয়, আগে অর্থ না দেয়া হলে দলগুলোর খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। ফ্রেন্ডন্স লিগ টি-টোয়েন্টির সেমিফাইনালে বিজয়ী দুই দলের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অংশ নেয়ার কথা। ল্যাঙ্কাশায়ার ও লিস্টারশায়ার প্রথম এবং হ্যাম্পশায়ার ও সামারসেট দ্বিতীয় সেমিফাইনালে খেলবে।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগ হবে সেপ্টেম্বরে

প্রতিযোগিতার বাছাই পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জনের পরপরই আয়োজকরা তাদের খরচের অর্থ দিয়ে দিক, এমনটাই চায় ইসিবি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম দুই আসরে অংশ নেয়া অনেক দলই সময় মতো অর্থ পায়নি। অনেক দলকে আবার পুরো অর্থ দেয়া হয়নি। ২০০৯ সালে প্রতিযোগিতার প্রথম আসরে সামারসেট ও সাসেক্স অংশ নেয়। তবে পরের বছর আয়োজকদের সঙ্গে সময়সূচি নিয়ে ইসিবির বনিবনা না হওয়ায় ইংল্যান্ডের কোনো দল এতে অংশ নেয়নি।

সমারসেটের প্রধান নির্বাহী রিচার্ড গোল্ড বলেন, আমাদের অর্থ দিতে অনেক দেরি করে তারা। অবশেষে পাঁচ মাস পর অর্থ দেয়া হলেও ভারত সরকারের কর হিসেবে ২০ শতাংশ কেটে রাখা হয়। রিচার্ড বর্তমানে সারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তৃতীয় আসরের বাছাই পর্ব ১৯ সেপ্টেম্বর হায়দ্রাবাদে শুরু হবে।
Greg Chappell spoilt my career says Sourav Ganguly


Ex- India captain Sourav Ganguly was quietly excited at The Oval yesterday on knowing about ex- enemy Greg Chappell being sacked as Australia’s national talent manager. Even as the majority of the press here were chasing Sourav Ganguly for a response, India’s most effective skipper took the news in his style, and thought that justice had been done for everything that transpired between the 2 during their reign at the helm of Indian cricket nearly 5 years ago.
Sourav Ganguly praised Cricket Australia’s verdict to sack Chappell. “Now, people will realize who was correct and who was incorrect (during their clash as skipper and coach of the Indian squad). He is a really big cricketer… a huge name… it is extremely unlucky,” he told.Ganguly charged Chappell’s ‘backroom politics’ for actually spoiling his career. “How many more occasions will such things (controversies) occur? He spoilt my position,” says Ganguly.
The Ganguly-Chappell conflict, perhaps the most well known love-hate connection in cricket history, was generated by a series of events in late the year 2005 and early ’06 that involved extremely publicised infighting between them. It also ended Ganguly’s captaincy stint.
ভালো সমাপ্তির আশায় বাংলাদেশ দল


জিম্বাবুয়েতে পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে আজ

ভেন্যু পরিবর্তনের সাথে সাথে বাংলাদেশের পারফর্মেন্সেও পরিবর্তন এসেছে। হারারে থেকে পরাজয় সঙ্গে আনলেও ক্রিকেটাররা সব ভুলে বুলাওয়ের কুইন্স ক্লাব মাঠে নেমেছিলেন। এমনিতে বুলাওয়ের মাঠটি বাংলাদেশের জন্য পয়া, তারউপর মান বাঁচাতে চতুর্থ ম্যাচের শুরু থেকে লড়াই করে গেছেন প্রত্যেকে। ক্রিকেটাররা সেটির ফল পেয়েছেন প্রতিপক্ষকে হারানোর মধ্য দিয়ে। চার ম্যাচে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে আছে সাকিবরা, সেটিকে ৩-২ করার লক্ষ্য নিয়ে আজ সিরিজের শেষ ম্যাচ খেলতে মাঠে নামছে সফরকারীরা।

হারারের মাঠের তুলনায় বুলাওয়ের মাঠটি ব্যাটিং সহায়ক, স্পিনারদের জন্য কিছুটা ফেভার করে বটে, তবে পেসার রুবেল হোসেন যে কৃতিত্ব দেখালেন গত ম্যাচে তার জন্যই অধিনায়ক সাকিব আল হাসান গর্বিত। বুলাওয়ে সিরিজের পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচেও বোলাররা ভালো করবে বলে আশাবাদী অধিনায়ক। বললেন, ‘হারারের তুলনায় বুলাওয়েতে আমরা অনেক বেশি মানিয়ে নিতে পারি। গত ম্যাচটিতে জয়ই আমাদের বড় উদাহরণ । তাই বলে এই নয়, এই মাঠে আমরা সর্বদা জয় পাই। আমরা আসলে গত ম্যাচে ভালো ক্রিকেট খেলেছি, এই ধারাটি আজকের ম্যাচে বজায় রাখতে হবে’।

ওয়ানডে সিরিজের শুরু থেকে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ফেভারিটের তকমা গায়ে লাগানো ছিল বাংলাদেশের। এই সিরিজের আগে গত ছয়টি সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে আধিপত্য দেখানো বাংলাদেশ তা প্রমাণই করেছে। সাকিব অবশ্য এই সিরিজটি হারার জন্য নিজেদের খামখেয়ালিপনাকেই দায়ি করেছেন। তাছাড়া, গত এপ্রিলের পর থেকে বাংলাদেশ কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেনি। সাকিব ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) ও ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেট ওস্টারশায়ারের হয়ে খেলেছেন। আর সহ-অধিনায়ক তামিম ইকবাল কাউন্টি ক্রিকেট নটিংহ্যামশায়ারের হয়ে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলেছেন। বাকিরা তেমন পর্যাপ্ত ক্রিকেট খেলেননি। অধিনায়ক বলেন, ‘আসলে প্রত্যেকে চাপে ছিল। পাশাপাশি আমরা কেউ গত তিনমাস ধরে প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেনি স্রেফ আমি ও তামিম ছাড়া। এই কারণে অন্যদের সাথে সামঞ্জস্য করাটা কঠিন ছিল’।

বুলাওয়ের এই মাঠে আগের সাতটি ম্যাচে ৫টিতে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। আশা করছি আজকের ম্যাচটি জিতে সিরিজটাকে আপাতত ৩-২ ব্যবধান করতে পারবে সফরকারীরা। তবে তার আগে বাংলাদেশের প্রয়োজন নিজেদের আত্মবিশ্বাসকে চাঙ্গা রাখা। গত ম্যাচের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। অধিনায়ক এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘যদিও চতুর্থ ম্যাচের জয় সিরিজের কোন পরিবর্তন হয়নি। তবে এর থেকে ইতিবাচক কিছু খুঁজে নিতে হবে। তবে আমি খুশি নতুন ক্রিকেটারদের প্রতি। বিশেষ করে নাসির হোসেন ও শুভগত হোম দুইজনই তাদের ক্যারিয়ারের শুরুতে চমক দেখিয়েছেন’।

নাসির হোসেন প্রথম ম্যাচে হাফ সেঞ্চুরি করেছেন, আর শুভগত দুই ম্যাচেই ভালো পারফর্মেন্স দেখিয়েছেন। সাকিব এ জন্যই এই দুইজনকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। ‘দেখুন আমি ভাবতে পারিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচে এরা এতটা ভালো পারফর্মেন্স করবে। আমি আসলেই সন্তুষ্ট তাদের পারফর্মেন্সে। শুভগত ভালো ব্যাটিং করেছেন, তার ব্যাটিংয়ে আমি মুগ্ধ’।

সিরিজের চতুর্থ ম্যাচে ৬ উইকেটের জয় পেলেও বাংলাদেশের ব্যাটিং সাইডে কিছুটা দুশ্চিন্তা থেকেই যাচ্ছে। তারপরও এই ম্যাচের পারফর্মেন্স নিয়ে সন্তুষ্ট অধিনায়ক সাকিব। ‘আমি এখনো মনে করছি, আমরা গত ম্যাচের শেষটা ভালো করেছি। আমরা চার উইকেট খুঁইয়েছি ঠিকই, এই কারণে নতুন ব্যাটসম্যানদের জন্য মানিয়ে নেয়াটাও কঠিন ছিল। তবে এর জন্য সিনিয়র ব্যাটসম্যানকেই দায়িত্ব নিতে হত আর সেটি হয়েছে। আমি তো মনে করি, গত ম্যাচে টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন যথাযথভাবে। যেমনটি আমরা শুরু থেকে চেয়েছিলাম, এখনো আমাদের সামনে একটি ম্যাচ রয়েছে। শেষ ম্যাচটি যদি ভালোভাবে শেষ করতে পারি, তবে আমরা ইতিবাচক কিছু নিয়ে বাড়ী ফিরতে পারবো’।

তিনদিনের প্রস্তুতি ম্যাচ, একমাত্র টেস্ট ম্যাচ এবং ওয়ানডে সিরিজের টানা তিন ম্যাচ হেরে বাংলাদেশের মনোবলই ভেঙ্গে পড়েছিল। চতুর্থ ম্যাচটি জিতে সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সাকিবরা, তবে সিরিজের শেষ ম্যাচটিও জিততে মরিয়া সফরকারীরা।

সিরিজের শেষ ম্যাচে দলে কোন পরিবর্তন আনবে কিনা তা গতকাল রাত পর্যন্ত জানাতে পারেনি টিম ম্যানেজম্যান্ট। জানা গেছে, অপরিবর্তিত দলকেই আজ দুপুর দেড়টায় মাঠে নামানো হবে। সেক্ষেত্রে মোহাম্মদ আশরাফুল ও শাহরিয়ার নাফীসকে আজও ড্রেসিংরুমে বসে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। জিম্বাবুয়ের সিরিজ শেষে আগামীকাল দেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবে বাংলাদেশ।

৫ম ও শেষ ওয়ানডে

১ম ওয়ানডে :

জিম্বাবুয়ে ৪ উইকেটে জয়ী

২য় ওয়ানডে :

জিম্বাবুয়ে ৭ উইকেটে জয়ী

৩য় ওয়ানডে :

জিম্বাবুয়ে ৫ রানে জয়ী

৪র্থ ওয়ানডে

বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জয়ী
বেলের ডাবল সেঞ্চুরিতে রানেরপাহাড়গড়ল ইংল্যান্ড


ইয়ান বেলের ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির উপর ভর করে ওভাল টেস্টের তৃতীয় দিনে সফরকারীদের উপর রানের পাহাড় চাপিয়ে দিয়েছে স্বাগতিক ইংল্যান্ড। কিন্তু প্রথম দিনের মত লাঞ্চের সময় বৃষ্টি শুরু হয়ে অনবরত চলতে থাকায় তাদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছয় উইকেট হারিয়ে ৫৯১ রান তুলেছে স্ট্রাউসরা। রবি বোপারা ও ম্যাট প্রায়র যথাক্রমে ৪৪ ও ১৮ রান নিয়ে ব্যাট করছেন।

গতকাল সকালে আগের দিনের তিন উ্ইকেটে ৪৫৭ রান নিয়ে ব্যাট করতে নামেন ইয়ান বেল ও জেমস অ্যান্ডারসন। নাইটওয়াচম্যান জেমস অ্যান্ডাসনকে নিয়ে দেখে-শুনে দিনের খেলা শুরু করেন বেল। তবে দিনের প্রথম উইকেট নিতে বেশি সময় লাগেনি ভারতীয় বোলারদের। দলীয় ৪৮০ রানে অ্যান্ডারসনকে আউট করেন শান্তাকুমারান শ্রীশান্থ। আউট হবার আগে ১৩ রান করেন তিনি। দুই ওভার পর আবারো আঘাত হানেন শ্রীশান্থ। এবার তার শিকার এজবাস্টন টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান ইয়ান মরগান। অপরপ্রান্তে বেল তখন ১৯৭ রানে অপরাজিত।

পঞ্চম উইকেট পতনের পর বেলের সাথে যোগ দেন রবি বোপারা। এর কিছুক্ষণ পরেই শ্রীশান্থের একটি বল ফ্লিক করে ফাইন লেগ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির উল্লাসে মেতে উঠেন বেল। এই মাইলফলকে পৌঁছাবার পথে তিনি ৩৩১ বল খেলেন ও ২০টি চার মারেন।

ডাবল সেঞ্চুরি করার পর হাত খুলে খেলতে থাকেন বেল। ষষ্ঠ উইকেটে বোপারাকে সাথে নিয়ে ৬১ রান যোগ করেন তিনি। রায়নার বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পরে আউট হবার আগে ২৩৫ রান করেন তিনি। মারেন ২৩টি চার ও দুটি ছয়ের মার।

বেল আউট হবার পর ব্যাট করতে নামেন উইকেটরক্ষণ ব্যাটসম্যান প্রায়র। ৫৯১ রান নিয়ে লাঞ্চে যাবার আগ পর্যন্ত বেলের সাথে সপ্তম উইকেটে ৪৭ রান যোগ করেন তিনি। কিন্তু লাঞ্চ করতে যাবার পরপরই ওভালে হানা দেয় বৃষ্টি।

ভারতীয় বোলারদের মধ্যে শ্রীশান্থ ১২৩ রানে তিনটি উইকেট নেন। রায়না ৫৮ রান দিয়ে দুটি এবং ইশান্ত ৯৭ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন।

এর আগে, টেস্টের দ্বিতীয় দিন চা বিরতির পর ব্যাট করতে নেমে প্রথম বলেই সিরিজে দ্বিতীয়বার তিন অংকে পৌঁছান কেভিন পিটারসেন। ইশান্ত শর্মাকে চার মেরে ক্যারিয়ারের ১৯তম সেঞ্চুরি তুলে নেন। সেঞ্চুরির পরেই বলেই অবশ্য জীবন পান পিটারসেন। একই ধরনের শট খেলতে গিয়ে মিড অনে দাঁড়ানো গৌতম গম্ভীরের হাতে তুলে দিয়েছিলেন বল, কিন্তু ভারতের দুর্ভাগ্য ও ইংল্যান্ডের সৌভাগ্য বলতে মুঠোয় রাখতে পারেননি গম্ভীর।

জীবন পাওয়ার পর আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেন পিটারসেন। জোড়ায় জোড়ায় চার মারতে থাকেন তিনি। ভারতীয় বোলারদের ধীরগতির বোলিংও তাদের যথেষ্ট সহায়তা করেছে। একজন ধারাভাষ্যকারতো আর পি সিংয়ের বোলিংকে শহীদ আফ্রিদির বোলিংয়ের চেয়েও ধীরগতির বলেছেন। নতুন বলের কোন ফায়দা তুলতে পারেননি ভারতীয় পেসাররা। তাদেরকে হতাশায় ডুবিয়ে দ্রুতগতিতে রান তুলতে থাকেন বেল-পিটারসেন। এক্ষেত্রে অবশ্য পরেরজনই এগিয়ে ছিলেন।

সিরিজে দ্বিতীয় ও ক্যারিয়ারের তৃতীয় ডাবল সেঞ্চুরিটা পেয়ে যাবেন মনে হচ্ছিল। কিন্তু পার্টটাইম বোলার সুরেশ রায়নার বলে তার হাতেই ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় পিটারসেনের ভারতীয় বোলার নিধনযজ্ঞ। আউট হবার আগে ওয়ানডে স্টাইলে খেলে ২৩২ বলে ২৭টি চারের সাহায্যে করেন ১৭৫ রান। ইংল্যান্ডের রান ৪৪৭। ততক্ষণে অবশ্য বেলকে সাথে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে ৩৫০ রান তুলে ফেলেছেন। যেকোন উইকেট জুটিতে এটি ইংলিশদের সপ্তম সর্বোচ্চ। এর জন্য তাদেরকে খেলতে হয়েছে মাত্র ৭৯ ওভার। ওভারপ্রতি রান ৪.৪৩! দিনের বাকী সময়টুকু নাইটওয়াচম্যান জেমস অ্যান্ডারসনকে সাথে নিয়ে পার করে দেন বেল। ইংল্যান্ড দিন শেষ করে তিন উইকেটে ৪৫৭ রান নিয়ে। বেল ১৮১ ও অ্যান্ডারসন তিন রানে অপরাজিত ছিলেন।

চার টেস্টের প্রথম তিনটিতে হেরে ইতোমধ্যে সিরিজ হারিয়ে ফেলা ভারত হোয়াইটওয়াশ এড়াতে লড়ছে।


ইংল্যান্ড প্রথম ইনিংস

স্ট্রাউস ক ধোনি ব শ্রীশান্থ ৩৮

কুক ক সেবাগ ব ইশান্ত ৩৪

বেল এলবিডব্লিউ ব রায়না ২৩৫

পিটারসেন ক ও ব রায়না ১৭৫

অ্যান্ডারসন ক লক্ষন ব শ্রীশান্থ ১৩

মরগান ক ধোনি ব শ্রীশান্থ ১

বোপারা অপরাজিত ৪৪

প্রায়র অপরাজিত ১৮

অতিরিক্ত (বাই-৬, লেগবাই-৮, ওয়াইড-৭, নো বল-১০) ৩১

মোট ( ১৫৩ ওভারে ছয় উইকেটে) ৫৯১

উইকেট পতন: ১-৭৫, ২-৯৭, ৩-৪৪৭, ৪-৪৮০, ৫-৪৮৭, ৬-৫৪৮।

বোলিং: আর পি সিং ৩৪-৭-১১৮-০, ইশান্ত শর্মা ৩১-৭-৯৭-১, শ্রীশান্থ ২৯-২-১২৩-৩, রায়না ১৯-২-৫৮-২, অমিত মিশ্র ৩৮-৩-১৭০-০, টেন্ডুলকার ২-০-১১-০।

এক ম্যাচ বাকী থাকতেই অস্ট্রেলিয়ার সিরিজ জয়


কলম্বোর রাজাপক্ষে স্টেডিয়ামে সিরিজের চতুর্থ ওয়ানডেতে জিতে সিরিজ নিজেদের করে নিল সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। ব্রেট লি ও জেভিয়ার ডোহার্টির দুর্দান্ত বোলিংয়ের পর শন মার্শের দারুণ ব্যাটিংয়ে স্বাগতিক শ্রীলংকাকে পাঁচ উইকেটে পরাজিত করেছে অজিরা। ফলে এক ম্যাচ বাকী থাকতেই সিরিজ জিতল তারা।

শংকা ছিল অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে চলা তুলকালামকাণ্ড তাদের দলের মাঠের খেলায় প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু সেটা যে হয়নি তার প্রমাণ দারুণ খেলেই দিল অজিরা। স্বাগতিকদের মাত্র ১৩২ রানে অলআউট করে দিয়ে সিরিজ জয়ের পথে অর্ধেকটা কাজ সেরে রেখেছিল বোলাররা। কিন্তু ব্যাট করতে নেমে শুরুটা লংকানদের মত হলেও ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন পেয়ে ওপেনিংয়ে নামা শন মার্শ ও অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক শক্ত হাতে হাল ধরলে লংকানদের সিরিজে সমতা আনার আশা ধুলিস্যাত্ হয়ে যায়। তৃতীয় উইকেটে মার্শ ও ক্লার্ক ৯৭ রান যোগ করেন। অভিষিক্ত সেক্কুজে প্রসন্নর বলে আউট হবার আগে ৭০ রান করেন মার্শ। ছাব্বিশতম ওভারে তিন উইকেট নিয়ে প্রসন্ন অস্ট্রেলিয়াকে ঝাঁকি দিলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ক্লার্ক ৩৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।

প্রসন্ন ৩৮ রানে তিন উইকেট এবং লাসিথ মালিঙ্গা ১৮ রানে দুই উইকেট নেন।

টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন শ্রীলংকার অধিনায়ক তিলকারত্নে দিলশান। কিন্তু সে সিদ্ধান্তকে সঠিক প্রমাণ করতে পারেননি তার দলের ব্যাটসম্যানরা। ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের তোপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। দলীয় ২০ রানে অধিনায়ক তিলকারত্নে দিলশানকে (১২) দিয়ে ধ্বংস যজ্ঞের সূচনা করেন ডগ বলিঙ্গার। তিন বল পরেই অধিনায়কের পদাঙ্ক অনুসরণ করেন তৃতীয় ম্যাচে সেঞ্চুরি করে দলকে সিরিজে ফেরানো উপুল থারাঙ্গা। এবার হন্তারক ব্রেট লি। দলীয় ২৪ রানে আউট হবার আগে নিজের নামের পাশে মাত্র আট রান যোগ করেন তিনি।

ওপেনারদের হারানোর পর শ্রীলংকার ইনিংসের হাল ধরেন দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান কুমার সাঙ্গাকারা ও মাহেলা জয়াবর্ধনে। সাবধানে ব্যাট করে দলের বিপর্যয় কাটিয়ে উঠার চেষ্টা করেন এ দু’জন। সে কাজে কিছুটা সফলও হয়েছিলেন। তৃতীয় উইকেটে সাবেক দুই অধিনায়ক যোগ করেন ৭১ রান। কিন্তু সাঙ্গাকারার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ভাঙ্গে এ জুটি।

দলীয় ৯৫ রানে আউট হন সাঙ্গাকারা (৩১)। তাকে আউট করে বাঁহাতি স্পিনার জেভিয়ার ডোহার্টি। এক বল পরে আবারো আঘাত হানেন ডোহার্টি। এবার তার শিকার চামারা সিলভা। রানের খাতা খোলার আগেই এলবিডব্লিউ’র ফাঁদে পড়েন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। একই ওভারে জোড়া উইকেট হারানোর ধাক্কা আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি স্বাগতিকরা। জয়াবর্ধনে একপাশে লড়াই করে গেলেও দলের ভরাডুবি ঠেকাতে পারেননি। নবম ব্যাটসম্যান হিসেবে লি’র বলে কট এন্ড বোল্ড হবার আগে করেন ইনিংস সর্বোচ্চ ৫৩ রান।

লংকানদের ইনিংসে দুই অংকে পৌঁছাতে পেরেছেন মাত্র তিন ব্যাটসম্যান। চারজন ব্যাটসম্যান রানের খাতাই খুলতে পারেননি। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৪ রান এসেছে অতিরিক্ত থেকে। লি ও ডোহার্টি যথাক্রমে ১৫ ও ২৮ রান দিয়ে সমান চারটি করে উইকেট নেন। বাকী দুটি উইকেট নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেন ওয়াটসন ও বলিঙ্গার।

যে কোন উপায়ে শেষ ম্যাচ জিততে চায় জিম্বাবুয়ে

ব্রায়ান ভিটোরি ইনজুরিতে, তবে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে ফিরবেন তিনি। ভিটোরি না থাকায় বাংলাদেশও সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ জিতেছে এমনটি মনে করছেন না দলের কোচ অ্যালান বুচার। তবে সিরিজের চতুর্থ ম্যাচ হারলেও সিরিজের শেষ ম্যাচটি যে কোন উপায় হোক জয় ছিনিয়ে নিবে তারা।

আজ বুলাওয়ের কুইন্স ক্লাব মাঠে দুপুর দেড়টায় শেষ ম্যাচটি স্বাগতিকদের জন্য চ্যালেঞ্জের। বাংলাদেশ আগের ম্যাচে জয় পাওয়ায় তারা এবার অনেক বেশি সতর্ক। জিম্বাবুয়ের কোচ বুচার স্বীকার করেছেন, গত ম্যাচে তার দলের খেলোয়াড়রা ভালো ব্যাটিং ও বোলিং করতে পারেনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে সিরিজ জিতেছি, আমরা চেয়েছিলাম সিরিজটি ৫-০ ব্যবধানে জিততে। কিন্তু একটি ম্যাচে বাজে ব্যাটিং এবং বোলিং করেছি। আসলে এই ম্যাচটি বাংলাদেশেরই প্রাপ্য ছিল। গত ম্যাচে আমাদের ৬০-৭০ রান কম হয়েছে। তাছাড়া মিস ফিল্ডিং এবং রান আউট মিস করায় ম্যাচটি আমাদের হাতছাড়া হয়ে যায়। ব্রেন্ডন টেইলর অসাধারণ ব্যাটিং করেছেন বটে, কিন্তু অন্যরা তেমন কিছু করতে পারেননি’।

চতুর্থ ম্যাচে ভিটোরিকে পায়নি স্বাগতিকরা, তবে সামান্য ইনজুরি থাকলেও তিনি শেষ ম্যাচ খেলতে পারবেন বলে টিম ম্যানেজম্যান্ট থেকে জানা যায়। কোচ বুচার বলেন, ‘হারারের ম্যাচে ভিটোরি হাল্কা ইনজুরি থাকলেও শেষ ম্যাচে তিনি যদি সুস্থ অনুভব করেন তবে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাকে খেলাবো। তবে একশ’ ভাগ ফিট না থাকলে তাকে খেলাবে না’।

বাংলাদেশকে নিয়ে জিম্বাবুয়ের কোচের ভয় রয়েছে। সাকিবরা যেভাবে উন্নতি করেছে তাতে শেষ ম্যাচটি তাদের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। বুচার বলেন, ‘আমরা দেখেছি বাংলাদেশ কিভাবে উন্নতি করেছে। তবে আমরাও আশাবাদী আজকের ম্যাচে খেলোয়াড়রাও অনেক উন্নতি করবে। আজকের ম্যাচে আমাদেরকেও ঘুরে দাঁড়াতে হবে’।


ভারতের বিপর্যয়ের জন্য বিসিসিআই দায়ী করলেন সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক

পাকিস্তানের সাবেক টেস্ট অধিনায়ক মুস্তাক মোহাম্মদ মনে করেন ইংল্যান্ড সফরে মহেন্দ্র সিং ধোনির দলের বিপর্যয়ের জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডই দায়ী।

মুস্তাক মোহাম্মদ বলেন- চলতি সফরে বাজে একটি পরিকল্পনার জন্য বিসিসিআই (বোর্ড অফ কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া) অনেকটাই দায়ী। তারা মনে করেছে তাদের ক্রিকেটাররা একেকটি মেশিন। তাদেরকে এই সফরে মেশিন হিসেবেই মনে করা হয়েছে। একজন খেলোয়াড় কখনই দিনের পর দিন খেলতে পারে না। তারা মানুষ, তারা অবশ্যই শারীরিক এবং মানসিকভাবে পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েছে। তাদের এখন বিশ্রামের প্রয়োজন।

চলতি সফরে ভারতীয় খেলোয়াড়রা যে প্রচন্ড ক্লান্ত এ নিয়ে কোন সন্দেহ প্রকাশ করেননি ৬৭ বছর বয়সী পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত আমি ভারতের সবগুলো খেলাই দেখেছি। আমি লক্ষ্য করেছি তারা বেশ পরিশ্রান্ত। এটা বিস্ময়কর নয় বরং দারুণ হতাশাজনক। যেকোন ধরনের প্রতিযোগিতায় খেলোয়াড়দের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানসিকতা থাকতে হয়। কিন্তু সেটাতো নেই, বরং ভারতীয় খেলোয়াড়দের দেখে মনে হচ্ছে তারা শারীরিক এবং মানসিক উভয় দিক থেকেই ক্লান্ত। এটা তাদের শরীর ও মুখের ভাষায় স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে। ভিন্ন পরিস্থিতিতে একজন খেলোয়াড় কিভাবে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে লড়াই করবে সেদিক থেকে একটি টেস্ট ম্যাচে খেলোয়াড়দের সম্পর্কে অনেক কিছুই পর্যালোচনা করা যায়। কিন্তু পরিশ্রান্ত হওয়ায় তারা ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোন জবাবই দিতে পারছে না।

মুস্তাক আরো জানিয়েছেন, ব্যাক আপ সহযোগিতা না থাকার কারণে বিশেষ করে ভারতীয় বোলারদের মধ্যে ক্লান্তিভাব বেশি ফুটে উঠেছে। তাদের দেখে মনে হচ্ছে অতিরিক্ত বোলিংয়ের কারণে তারা কিছুই করতে পারছে না। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজ শেষ করেই ভারত সরাসরি ইংল্যান্ডে আসে এবং কোনরকম প্রস্তুতি ছাড়াই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ শুরু করে।

সাবেক এই টেস্ট খেলোয়াড় বলেন, ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা কঠিন ইংলিশ কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়ার জন্য খুব একটা সময় পাননি। কোন ম্যাচেই তারা নিজেকে ধরে রেখে বড় স্কোর গড়তে পারেনি। সিরিজ শুরুর আগে তার একটি মাত্র তিনদিনের অনুশীলন ম্যাচ খেলেছে। ভারতীয় ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার জন্য এটি অন্যতম কারণ। যেকোন গুরুত্বপূর্ণ সিরিজের আগে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকলে সেটা দলের জন্য উল্টো ফল বয়ে নিয়ে আসে এবং সেটাই হয়েছে ইংল্যান্ডে।

বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং লাইন আপ নিয়েও কোন ইনিংসে ৩০০ রানের গন্ডি পার হতে না পারায় বিস্মিত কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে মুস্তাক বলেন- তাদের অবশ্যই উপলব্ধি করতে হবে টেস্ট ক্রিকেট খুবই একটি কঠিন বিষয় এবং এটা একদিনে শেষ হয়ে যায় না। এখানে তোমাকে বেঁচে থাকতে হবে এবং পাঁচদিন লড়াই করতে হবে। আজ বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটিং লাইন আপ নিয়ে ভারতের এই ব্যর্থতা শুধু দলটিকেই নয় বরং তার ভক্ত-সমর্থকদের হতাশ করেছে।

জাতীয় দলের তুলনায় আইপিএল এর মত টুর্নামেন্টকে বেশি প্রাধান্য দেয়াকে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লে­খ করেছেন পাকিস্তানের হয়ে ৫৭ টেস্ট এবং ১০টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা মুস্তাক মোহাম্মদ।