Forum Announcements and FAQ/Support! Learn how to use this forum properly. Tips and tricks on using this forum...
#2106746
|| শুভ নববর্ষ ১৪২০ || 'বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা' |


Image
দরিদ্র পরিবারের পক্ষ থেকে সকল সদস্য কে জানাই বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা ।। শুভ নববর্ষ ১৪২০ ।।
Image


বাংলাদেশের বাংলা বছর
আজ হয়েছে শেষ
নতুন দিনে নতুন বছর
ছড়াল তার রেশ।

নতুন প্রানে নতুন গানে
নতুন বছর আসে
দুখের বোঝা পেছনে ফেলে
নতুন এল পাশে।

কালবোশেখি রথের মেলা
নানা রকম সাজ
ঝরো বাতাস মেঘলা আকাশ
নানান কারুকাজ।

গাছে গাছে আমের মুকুল
ঝড় যে কখন আসে
তবুও যে আনন্দেতে
প্রকৃতি আজ হাসে।

মেলায় চলো মেলাতে যাই
মানুষ গুলো ছুটে
শুকনো পাতা ঝরে পড়ে
নতুন ফুটে উঠে।

নতুন বছর তোমায় আমি
জানাই আমন্ত্রন
সুখে যেন থাকে সবাই
হাসি খুশি মন।।



শুভ নববর্ষ ১৪২০

শুভ নববর্ষ ১৪২০। বঙ্গাব্দ বর্ষপঞ্জি অনুযায়ী আগামী ১৪ এপ্রিল শুরু হবে নতুন আরেকটি বছর। বাংলাদেশে প্রতিবছর ১৪ ই এপ্রিল নববর্ষ পালিত হয়। জ্ঞানতাপস ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ প্রণীত বাংলা একাডেমী কর্তৃক নির্ধারিত পঞ্জিকা অনুসারে এ দিনটিকে নির্দিষ্ট করা হয়েছে। বাংলা দিনপঞ্জির সাথে হিজরী ও খ্রিষ্টীয় সনের মৌলিক কিছু পার্থক্য রয়েছে। তা হলো হিজরি সাল চলে চাঁদের সাথে আর খ্রিষ্টীয় সাল চলে সৌর ঘড়ির সাথে। একারণে হিজরি সনের নতুন তারিখ শুরু হয় সন্ধ্যায় নতুন চাঁদের আগমনের মধ্য দিয়ে, ইংরেজি দিন শুরু হয় মধ্যরাতে আর বাংলা সনের শুরু হয় ভোরের সূর্য ওঠার সাথে সাথে।

ইতিহাস থেকে জানা যায়, ভারত বর্ষে মুঘল সাম্রাজ্য শুরুর পর থেকে আরবি বছর হিজরি পঞ্জিকা অনুযায়ী তারা কৃষিপণ্যের খাজনা আদায় করত। কিন্তু হিজরি সাল চাঁদের উপর নির্ভরশীল হওয়ায় কৃষি ফলনের সাথে এর কোনো মিল পাওয়া যেত না। আর তখনই সম্রাট আকবর এর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য বাংলায় বর্ষপঞ্জি সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সম্রাটের আদেশ অনুযায়ী সে সময়কার বিখ্যাত জ্যোতির্বিজ্ঞানী ও চিন্তাবিদ আমীর ফতেহউল্লাহ সিরাজী সৌর বছর ও আরবি হিজরি সালেরও ওপর ভিত্তি করে নতুন বাংলা সনের নিয়ম তৈরির কাজ শুরু করেন। বাংলা বছর নির্ধারণ নিয়ে লেখা বিভিন্ন বইয়ের প্রাপ্ত তথ্যমতে, ১৫৫৪ খ্রিষ্টাব্দের ১০ ই মার্চ বা ১১ ই মার্চ থেকে বাংলা সন গণনা শুরু হয়। তবে পরীামূলক এই গণনা পদ্ধতিকে কার্যকর ধরা হয় ১৫৫৬ সালের ৫ নভেম্বর তারিখ থেকে অর্থাৎ সম্রাট আকবরের সিংহাসন আরওহণের তারিখ থেকে। প্রথমে ফসলি সন বলা হলেও পরে বঙ্গাব্দ বা বাংলা বর্ষ নামে পরিচিতি পেতে শুরু করে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলা মাসের নামগুলো বিভিন্ন তারকারাজির নাম থেকে নেয়া হয়েছে। যেমন : বিশাখা থেকে বৈশাখ, জেষ্ঠ্যা থেকে জ্যৈষ্ঠ, আষাঢ়া থেকে আষাঢ়, শ্রবণা থেকে শ্রাবণ, ভাদ্রপদ থেকে ভাদ্র, কৃত্তিকা থেকে কার্তিক, অগ্রহনী থেকে অগ্রহায়ণ, পূষ্যা থেকে পৌষ, মঘা থেকে মাঘ, ফল্গুনি থেকে ফাল্গুণ এবং চিত্রা থেকে চৈত্র। আগেকার দিনে অগ্রহায়ণ মাসে ধান কাটা শুরু হত বলে এই মাসকে বছরের প্রথম মাস ধরা হত। তাই এ মাসের নামই রাখা হয় অগ্রহায়ণ। অগ্র অর্থ প্রথম আর হায়ন অর্থ বর্ষ বা ধান।

সম্রাট আকবরের সময়ে একটি বিষয় ছিল অত্যন্ত কষ্ট সাধ্য, তা হলো মাসের প্রত্যেকটি দিনের জন্য আলাদা আলাদা নাম ছিল। যা কিনা প্রজা সাধারণের মনে রাখা খুবই কষ্ট হত। তাই সম্রাট শাহজাহান ৭ দিনে সপ্তাহ ভিত্তিক বাংলায় দিনের নামকরণের কাজ শুরু করেন। ইংরেজি বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ইংরেজি ৭ দিনের নামের কিছুটা আদলে বাংলায় ৭ দিনের নামকরণ করা হয়। যেমন : সানডে- রবিবার। সান অর্থ রবি বা সূর্য আর ডে অর্থ দিন। এভাবে বর্ষ গণনার রীতিকে বাংলায় প্রবর্তনের সংস্কার শুরু হয় মুঘল আমলে।

প্রতি বছর সারাদেশে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে দিনটি উদযাপন করা হয়। খুশির উল্লাসে অনেক ক্ষেত্রে মাত্রাজ্ঞান হারিয়ে ফেলে। যা কারো কাম্য নয়। কারণ এরফলে যেমন জাতীয় স্বকীয়তা নষ্ট হয়, ব্যক্তিরও ক্ষতি হয়।

নতুন বছরকে বরণ করা কোনো ধর্মীয় উৎসব নয়। এ উৎসব একান্তই বাঙালিদের জাতীয় অনুষ্ঠান। প্রতিটি জাতিই জাতীয় উৎসবসমূহ জাঁকজমকের সাথে উদযাপন করে। এ দেশের মানুষও এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই। অনেকেই ভুলে যান তারা শুধু বাঙালি নয়, মুসলমানও। এ কথা মনে রেখে অনুষ্ঠান সূচি সাজানো উচিত। প্রত্যেক মুসলমান সন্তানই জানেন, মঙ্গল প্রদীপ জ্বালানো, অশ্লীল নাচ গানের আয়োজন তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধের সংস্কৃতির পরিপন্থী। কিন্তু জারি, শারি, মুর্শীদী, ভাটিয়ালী গান, লাঠি খেলা, শালীন হাসি কৌতুক অনাগত দিনের শুভ কামনায় দোয়া দরূদ পড়ার আয়োজন, মিষ্টি বিতরণ ও সাধ্য অনুযায়ী ভালো খাবার রান্না, আত্মীয় স্বজন, পাড়া প্রতিবেশীদের সাথে জিয়াফত কিংবা মেজবানী ভিন্ন মাত্রা আনতে পারে এই জাতীয় উৎসবে।
By Advertisement Bot
#...?